কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভারতীয় প্রমিলা ক্রিকেটারের

ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি দীর্ঘদিন। এখনও ওয়ানডেতে ভারতীয় দলকে সামলান তিনি। ভারতের নারী ক্রিকেট দল বলতেই সবার আগে চলে আসে মিতালি রাজের নাম। যদিও সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক ছিলেন না তিনি। শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলে রাখা হয়েছিল তাকে। এমনকি গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের অপরিহার্যতার কথাও জানান দিয়েছিলেন তিনি।

সেই মিতালি রাজ এবার এমন এক পরিস্থিতির শিকার হলেন, যা তিনি হয়তো সারা জীবনেও কল্পনায় আনতে পারেননি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ভারতকে। ওই ম্যাচে খেলানো হয়নি মিতালি রাজকে। পুরো ভারতে তখন থেকেই জ্বল্পনার শুরু- মিতালিকে দল থেকে বাদ দেয়ার কারণেই হারতে হয়েছে ভারতকে। মিতালি যদি দলে থাকতেন, তাহলে হয়তো বা ভারত জিততো।
এরপর থেকেই নানা মুখরোচক কথা-বার্তা ছড়াতে থাকে ভারতীয় ক্রিকেটাঙ্গনে। বর্তমান অধিনায়ক হারমানপ্রিত কাউরের সঙ্গে মিতালির সম্পর্ক খারাপ নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মিতালিকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে- এমন নানা কথা-বার্তা চাউর হতে থাকে মিডিয়ায়। তবে, সর্বশেষ এ নিয়ে সরাসরি নিজেই মুখ খুলেছেন মিতালি।

বিসিসিআইর প্রধান নির্বাহী রাহুল জোহরি এবং ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার সাবা করিমকে লেখা এক চিঠিতে অনেক কথাই বলেছেন তিনি। সেখানে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলীয় কোচ রমেশ পাওয়ারের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মিতালি। ই-মেইলে বোর্ডের কাছে পাঠানো মিতালির সেই চিঠি ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে এবং পুরো চিঠিটিই মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকা কিছু ব্যক্তি আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’
কোচ রমেশ পাওয়ারের বিরুদ্ধে মিতালি রাজের অভিযোগ, কোচ তাকে অপমান করেছেন। নানাভাবে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিতালি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে নামার পর থেকেই কোচের সঙ্গে সমস্যার শুরু। প্রথমে ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে তার আচরণ ছিল অন্যায্য আর বৈষম্যমূলক। বিশ্বকাপ চলাকালীন নেটে আমি প্র্যাকটিস করলেই তিনি সেখান থেকে সরে যেতেন। তার সঙ্গে কোনো কথা বলতে গেলে ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হত সব সময়। বোঝাই যেত আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে কখনোই নিজের মেজাজ হারাইনি।’

ক্যারিয়ারে এত বাজে পরিস্থিতিতে পড়তে হবে সেটা ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারছেন না মিতালি। তিনি বলেন, ‘২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার এতটা কষ্ট পেলাম। এতখানি হতাশ হলাম। এখন ভাবতে হচ্ছে, দেশের জন্য যা করেছি, তার আদৌ কোনও মূল্য আছে তো? কারণ ক্ষমতার আসনে বসে থাকা অনেকেই আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিতে চেয়েছেন। তারা আমাকে ধ্বংস করে দিতে চায়।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিতালির বাদ পড়া নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। তবে এ বিতর্কে অধিনায়ক হারমানপ্রিত কাউরের পাশে দাঁড়ান বিসিসিআইয়ের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিওএ) সদস্য ডায়না এডুলজি। তিনি সরাসরি না বললেও, পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দেন, হারমানপ্রিতের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

হারমানপ্রিত কাউরের নামে কিছু না বলেও নিজের ক্ষোব উগরে দিয়েছেন তিনি ডায়না এডুলজির ওপর। মিতালি রাজ লিখেন, ‘সিওএ-র সদস্য হিসেবে আমি সব সময় এডুলজিকে সম্মানই করেছি; কিন্তু আমাকে এতদিন ধরে চেনা সত্ত্বেও আমায় বাদ দেওয়ার ঘটনাকে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। এই বিষয়টাই খারাপ লেগেছে আমার।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here