ব্যর্থতা স্বীকার করলেন জাকারবার্গ

Zuckerberg acknowledged failureZuckerberg acknowledged failureমার্ক জাকারবার্গ স্বীকার করলেন, গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক এবং সে তথ্য অপব্যবহৃতও হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীকে না জানিয়ে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।

মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি বললেন, ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলি ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয় না। ফেসবুক প্ল্যাটফর্মের অনৈতিক ব্যবহার তারা রুখতে পারেননি।

ব্রিটেনের তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের ৮ কোটি ৭০ লক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করেছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে। এজন্য মার্কিন কংগ্রেস তলব করেছে ফেসবুক সিইও জাকারবার্গকে।

সেই তলবে হাজিরা দেওয়ার আগে মার্কিন হাউজ এনার্জি অ্যান্ড কমার্স কমিটি জাকারবার্গের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে ফেসবুক প্রধান স্বীকার করেছেন, ‘এ ধরনের জিনিস খারাপ কাজেও লাগানো যায়, সেই ক্ষতিকর দিকটা ভেবে আমরা কখনোই যথেষ্ট ব্যবস্থা নিইনি। ফলে ভুয়া ¬খবর, ভোটে বিদেশের নাক গলানো, ঘৃণা ছড়ানো ইত্যাদি নানা কাজে ফেসবুক জড়িয়েছে।’

আজ ও আগামীকাল জাকারবার্গ কংগ্রেসের দুটো কমিটির প্রশ্নের মুখে পড়বেন। ফেসবুকের ১৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ব্যাক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ার পরে সেই অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। ফেসবুক নিজেও স্বীকার করেছে যে, ৮ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের তথ্যই বেহাত হয়েছে।

লন্ডনের কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হস্তক্ষেপ রয়েছে।

জাকারবার্গ বলেছেন, ‘আমি দুঃখিত। আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলাম না। সেটা একটা মস্ত বড় ভুল। এটা আমারই ভুল। আমিই এই সংগঠন চালিয়েছি। কাজেই এখানে যা কিছু হয়েছে তার জন্য আমিই দায়ী।’

জাকারবার্গ আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরবর্তী সময়ে ব্যবহারকারীদের তথ্য আর পাচার হবে না। তৃতীয় কেউ এসে যাতে সেই তথ্য হাতিয়ে নিতে না পারে সে দিকে সতর্ক নজর রাখবে ফেসবুক।

জাকারবার্গ জানালেন, সন্দেহজনক কাজকর্ম দেখলেই ফেসবুক এবার ফরেনসিক অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপের ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। কেউ তথ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনও গরমিল করলেই সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৩৩ বছর বয়সি জাকারবার্গ জানিয়েছেন, তারা অনলাইনে তথ্য ঘিরে লড়াই আর হতে দিতে চান না। সোশ্যাল মিডিয়ার তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফেসবুক স্বাধীন গবেষণাধর্মী কমিটি গঠন করতে চলেছে। ভোট এবং গণতন্ত্রে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করাই এর মূল লক্ষ্য হবে। এই কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষকদের সঙ্গে কথা বলবে। সে জন্য গবেষকও খুঁজে নেবে ফেসবুক। এরাই ঠিক করবেন, কোন কোন বিষয়ের উপর নজর রাখা হবে তথ্য ফাঁস রুখতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here