খালেদা জিয়ার কারাগার নিয়ে যা বললেন ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আলোচিত ডিআইজি প্রিজন

What Khaleda Zia said about the prison One-Eleven

দুর্নীতি মামলায় দণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এখন যেখানে রাখা হয়েছে এর চেয়ে ভালো জায়গায় রাখলে সরকারে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হতো বলে মনে করেন ওয়ান-ইলেভেনেরসরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আলোচিত ডিআইজি প্রিজন মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। সাবেক ডিআইজি প্রিজন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে প্রথমে যেখানে রাখা হয় সেটা কারাগারের প্রশাসনিক এলাকা ছিল।আমার জানামতে সেখানে আগে কোনো বন্দীকে রাখা হয়নি। পরে যেখানে তাকে নেয়া হয় সেই জায়গাটি আগের চেয়ে ভালো। তবে তাকে আরেকটু ভালো জায়গায় রাখলে কোনো সমালোচনা হতো না এবং

এতে সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হতো।’ বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ নামের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় আরও অংশনেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নবনিতা চৌধুরী। শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন,

‘কারাগারের কাজ হলো আদালতের আদেশ পালন করা। তাদের নিজেদের কিছু করার নেই। কারাগারের সবচেয়ে বড় দিক হলো মানবিক। কারাগারে আমরা বলে থাকি পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়।’ সাবেকএই কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘তা সত্ত্বেও সব আইনে লেখা থাকে না। ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ বলে একটা জিনিস আছে। কারা কর্তৃপক্ষ কখনও পক্ষপাতিত্ব করার কথা না। তবে অনেক সময় চাইলেও পারে না।’

তিনি বলেন, ‘জেলখানা সম্পর্কে মানুষের ততটা ধারণা নেই। এজন্য নিজের মতো করে বলে। অনেক সময় গুজবও ছড়ায়।’ একজন মন্ত্রীর জামাতা কারাগারে আছেন। তিনি সোফা-টিভি থেকে শুরু করে সবসুবিধা পাচ্ছেন। এটা কোনো বিধিতে পড়ে কি না? এমন প্রশ্নে সাবেক এই ডিআইজি প্রিজন বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই জেল কোডে পড়ে না।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াও ডিভিশন পেয়েছেন তিন দিন

পরে। এটা আইনের কারণে হয়ত। তবে এটা না হলে ভালো হতো।’ ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় দুই নেত্রীকে বন্দী করা হয়। তাদেরকে রাখা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে। তাদের দায়িত্বে
ছিলেন মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময় তৎকালীন সরকার কখনও আমাকে বলেনি দুই নেত্রীকে কষ্টে রাখ। আশা করি এই

সরকারও খালেদা জিয়াকে কষ্টে রাখতে বলেনি।’ ‘কেমন আছেন খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জানতে চান কয়েদিকে সবকিছু জানানোর বিধান আছে কি না? জবাব সাবেক এই ডিআইজিপ্রিজন বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারগারে থাকা অবস্থায় একবার তার বড়ছেলে তারেক রহমানের কপাল ফেটে গেল পড়ে গিয়ে। আমি সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে তাকে বিষয়টি জানাই। তাকে স্যার ও ম্যাডাম দুটিই

বলতাম। বললাম, স্যার এই ঘটনা ঘটেছে। আপনি আতঙ্কিত হবেন না। আগে এভাবে বলে দেয়ার কারণ হলো পরদিন হয়ত তিনি সংবাদপত্রে এই খবর দেখে আতঙ্কিত হয়ে যেতেন।’ মেজর সিদ্দিকী বলেন,‘এসব বন্দীর ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ যত ক্লিয়ার করবে তত মানুষের মন থেকে সন্দেহ দূর হবে। যা জানালে সমাজের বা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হবে না সেটা জানাতে সমস্যা কোথায়?’ তিনি বলেন, ‘মনে

রাখতে হবে, সবকিছু কারাবিধিতে উল্লেখ নেই। অনেক কিছু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে করতে হয়।’ খালেদা জিয়ার ডিভিশন পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালের ২৮ ডিসেম্বরের একটা চিঠি আছে
সেখানে বলা হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ডিভিশন দেবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ নিজে ডিভিশন দেয়ার অধিকার রাখত না। তবে বছরখানেক আগে একটি চিঠি এসেছে

সেখানে প্রথম শ্রেণির কোনো নাগরিক জেলে এলে কারা কর্তৃপক্ষ ডিভিশন দিতে পারবে বলে উল্লেখ আছে।’ খালেদা জিয়াকে কেন কাশিমপুর বা কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়া হয়নি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে
মেজর সিদ্দিকী বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি বড় দলের নেত্রী। তার লাখো-কোটি সমর্থক আছে। এত দূরে তাকে আনা-নেয়া করতে সমস্যা হতে পারে বিবেচনা করেই হয়ত কাছে রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here