হেপাটাইটিস বি কি? জেনে নিন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়

what is hepatitis b and how to prevent it

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক সংক্রমক রোগ যা যকৃত বা লিভার কে আক্রমণ করে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ভাইরাস (HBV) এর আক্রমণে এ রোগ হয়। হেপাটাইটিস বি এইডস এর চেয়ে ভয়ংকর বেশি। সারা বিশ্বে প্রায়  ৩৫ কোটি লোক এই রোগে আক্রান্ত।

প্রকোপঃ এ রোগ এখন মহামারী আকারেই বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে ও এ রোগের ব্যপ্তি সীমাহীন। এ দেশে প্রায় শতকরা ৭-১০ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বাহক। এ থেকে বিভিন্ন সময়ে জটিল সব লিভারের রোগ হচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মায়েরা ও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এবং তাদের নবজাতকেরা ও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গঃ ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ২-৩ মাস পর লক্ষণ অ উপসর্গ গুলো দেখা দিতে শুরু করে। এর লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো কখনো কখনো খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাহলে চলুন দেখা নেয়া যাক লক্ষণ গুলো-

  • খাদ্যে অরুচি
  • ক্ষুধা মন্দা বা বমি বমি ভাব
  • মাংস পেশি এবং হাড়ের সংযোগ স্থলে ব্যথা হয়
  • পেটে ব্যথা এবং সেই সাথে হালকা জ্বর।
  • প্রশাবের রং হলুদ হয়, চোখ হলুদ হয়ে যায় একে জন্ডিস বলে।
  • গা চুলকানো
  • গায়ের চামড়ার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া।
  • অবসাদ রোধ করা।
  • বেশীরভাগ সময়েই মাথা ব্যথা থাকা

যেভাবে এই ভাইরাস ছড়ায়

রক্তের সংস্পর্শতাঃ নিরাক্ষা বিহিন রক্ত এবং রক্তের উপাদান পরিসঞ্চালন, সংক্রমিত রক্ত-কাটা জায়গায় সংস্পর্শে আসলে। এছাড়া খোলা ক্ষত স্থান বা আঁচড়ের সংস্পর্শে আসলে।
দূষিত যন্ত্রপাতির ব্যবহারঃ মায়ের শরীর থেকে নবজাতকের শরীরে হেপাটাইটিস বি হওয়ার ঝুঁকি।
ব্যক্তিগত জিনিসের মাধ্যমঃ ব্যক্তিগত দৈনন্দিন জিনিসের মাধ্যমে যেমন- টুথব্রাশ, রেজার একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার ফলে।
সূঁচের সাহায্য নেশা গ্রহণঃ একই সূঁচ বিভিন্ন জনের ব্যবহারে শতকরা ৪০-৮০ ভাগ নেশা গ্রহণ কারীরা হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।
লালারস দ্বারাঃ লালারসে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত কত্রা হয়েছে। চুম্বনের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
আকুপাংচার, ট্যাটু বা শরীর ছিদ্র করার মাধ্যমেঃ- নোংরা বা দূষিত যন্ত্রপাতি দিয়ে আকুপাংচার, ট্যাটু বা নাক-কান ফোটানোর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এছাড়া সেলুনে একই ব্লেড, কাঁচি ব্যবহার করলে ও এই ভাইরাস হতে পারে।
যৌন কর্মঃ যৌন কর্মের মাধ্যমে ও এই ভাইরাসের বীর্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

ঝুঁকিতে আছে যারা:

  • রোগাক্রান্ত মায়ের নবজাতকেরা
  • ইনজেক শন দিয়ে যারা নেশা গ্রহণ করেন
  • রোগাক্রান্ত পরিবারের ঘনিষ্ঠজন বা তার সঙ্গী
  • স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা যারা রক্তের সংস্পর্শে প্রায়শই আসেন

নির্ণয় পদ্ধতিঃ প্রাথমিক ভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শনাক্তের জন্য রক্তে HBsAg স্ক্রিনিং টেস্ট করতে হয়। এজন্য সামাণ্য রক্ত পরীক্ষা করতে হয়।
আক্রান্ত রোগীদের করণীয়ঃ অহেতুক না ঘাবড়িয়ে ধীরে সুস্থে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ভাইরাসের কারণে লিভারের কন ক্ষতি হয়েছে কিনা বা হবার সম্ভাবনা আছে কিনা তা আগে নিশ্চিত হতে হবে।

রক্তে HBeAg, AST (SGOT), ALT (SGPT), HBV-DNA, আলট্রাসাউন্ড এবং এন্ডোসকপি করে নেয়া দরকার। এরপর ফলাফল বুঝে পদক্ষেপ এবং চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীকে নিয়মিত ফলো আপে রাখতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে হবে। পরিবারের সবাইকে হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং এবং সেই অনুযায়ী (নেগেটিভদের) ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি আক্রান্য দের হেপাটাইটিস বি এর ঔষুধ খেতে হবে।

প্রতিরোধঃ- ব্যক্তিগত পদক্ষেপ- ব্যক্তিগত দ্রবাদির সহব্যবহার বর্জন করতে হবে। সিরিঞ্জ বা সুই একবার ই ব্যবহার করতে হবে। নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও নিরাপদ যৌন চর্চা করতে হবে।

টিকা গ্রহণের মাধ্যমে- নির্দিষ্ট নিয়মে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর টিকা গ্রহণের আগে অবশ্যই হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং করে নিতে হবে

টিকার নিয়ম- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ অনুযায়ী এই টিকা দিতে হবে ০,১,৬ অথবা ০,১,২ ও ১২ মাসে। যদি কাঙ্খিত টাইটার অর্জিত না হয় তবে তৃতীয় ডোজের পরে অতিরিক্ত আরেকটি ডোজ (বুস্টার ডোজ) নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here