টার্নার সিনড্রোম

turner syndrome

টার্নার সিনড্রোম একটি জিনতাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা। কোন নারীর শরীরে একটি X ক্রোমজোম ( সন্তান মেয়ে জকিংবা ছেলে নির্ধারণ ক্রোমজোম ) অনুপস্থিত কিংবা বিকলাঙ্গ থাকলে টার্নার সিনড্রোম দৃশ্যমান হয়। এ সমস্যা শুধু নারীর জন্য প্রযোজ্য।

সাধারণত ক্রোমোজোমের সমস্যার কারণে টার্নার সিনড্রোম হয়ে থাকে। মানুষের শরীরে দেহকোষে ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। মেয়েদের শরীরে ২ টি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এ অসুখে দেখা যায় যে দুটির বদলে একটি ক্রোমোজোম আছে। ফলে বাইরে থেকে দেখতে মেয়ের মত মনে হলে ও স্বাভাবিক ভাবে মেয়েদের বৈশিষ্ট্য এদের মাঝে থাকে না। প্রতি ২৫০০ জনের মধ্যে একজনের এ সিনড্রোম দেখা যায়।

জেনে নেয়া যাক টার্নার সিনড্রোমের উপসর্গ গুলি:

এ রোগে আক্রান্ত নারী জন্মের সময় এবং শৈশবে কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেঃ-

  • হাত ও পা ফুলে যায় নব্জাতকের
  • দেখতে খাটো হয়
  • প্রথম তিন বছর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে ও এর পর বৃদ্ধি কমে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে এসে স্বাভাবিক বৃদ্ধি আর হয়না।
  • যোনি ও স্তন স্বাভাবিক থাকেনা অনেক ছোট থাকে।
  • ওভারি ঠিকমত কাজ করেনা ফলে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন হরমোন তৈরি হয়না।
  • নারী প্রজনন তন্ত্রে ডিম্বকোষ সুগঠনে অসামর্থ।
  • স্বল্প দৈর্ঘ ঘাড়।
  • হাত ও পায়ের নখের অস্বাভিবকতা।
  • ঘাড়ের অনেক নিচ পর্যন্ত মাথার চুল গজায়।
  • ত্রূটিযুক্ত কিডনী এবং প্রসাব নালী।
  • শ্রবণ প্রতিবন্ধি
  • শিশু অবস্থায় এদের বার বার মধ্যকর্ণে প্রদাহ হয় ফলে অনেক সময় শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
  • বগলে এবং যৌনাঙ্গে চুল গজায় না।
  • চওড়া বুক থাকে এবং নিপল স্বাভাবিক স্থানে থাকেনা।
  • হার্টে সমস্যা থাকে
  • উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়।
  • ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ডায়গনোসিসঃ টার্নার সিনড্রোমে নির্নয়ে সবচে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো কেরিওটাইপ নামক রক্ত পরীক্ষা। কেরিওটাইপ বিশ্লেষণে সবগুলো ক্রোমোজোমের গঠন তন্ত্র পর্যবেক্ষন করা হয়।

এর ধারা কি কি শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়ঃ অনেক টার্নার সিনড্রোম রোগীর ক্ষেত্রে হৃদরোগ, কিডনী জটিলতা এবং থাইরয়েড সমস্যা, কঙ্কাল তন্ত্রের গঠন গত ত্রুটি, শ্রবণ এবং কানে সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে প্রকট।

চিকিৎসাঃ টার্নার সিনড্রোমের চিকিৎসা একটু জটিল। বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের অধীনে চিজকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। গ্রোথ হরমোন ইনিজেকশন দিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দিলে সমস্যার তীব্রতা কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের সমস্যার জন্য কার্ডিওলজিস্ট দেখানো উচিত। বার বার মধ্য কর্ণের প্রদাহের জন্য ইএনটি স্পেশালিটিস্ট দেখানো যেতে পারে। টার্নার সিনড্রোম কোন অভিশাপ নয়। আশা করা যায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে টার্নার সিনড্রোমের উন্নত চিকিৎসা বের হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here