লম্বা হওয়ার সহজ উপায়

how to increase height easily

স্মার্ট, লম্বা, সুগঠন দেহের অধিকারী কে না হতে চায়? এছাড়াও রয়েছে বর্তমান মায়েদের বাড়তি দুচিন্তা। কিভাবে নিজের সন্তানের গ্রোথ বাড়ানো যায়। তাই আপনাদের জন্য আমার আজকের ব্লকটি হচ্ছে খুব সহজেই কিভাবে একটু বাড়তি পরিশ্রম করে নিজেকে লম্বা এবং সুন্দর দেহের অধিকারী হবেন।

আপেলঃ
আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পানি রয়েছে যা বাচ্ছাদের লম্বা হতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন খাবারের আধা ঘন্টা আগে একটি করে আপেল খেতে দিন আপনার বাচ্চকে। এতে করে আপেলে বিদ্যমান ফাইবারটি বাচ্চাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে।

আভাকাডোঃ
দুপুরে খাবারের সময় অর্ধেক আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। এতে করে বাচ্চাদেরকে লম্বা হতে সাহায্য করে। তাই আপনি আপনার বাচ্চার যত্নে দুপুরের খাবারের সময় আভাকাডো দিন।

স্যুপঃ
স্যুপে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। এটি একটি স্বাস্থ্য উপযোগী খাবার। এতে ভিটামিন ছাড়াও ক্যালরি বিদ্যমান যা ক্ষধা বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে কোষ বৃদ্ধি করে লম্বা করে তোলে।

মটরশুটি, কাচাঁ ছোলা, মসূরঃ
মটরশুটি, কাচাঁ ছোলা এবং মসুরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি এবং আয়রন রয়েছে। যা খেলে শরীরের কোষ বৃদ্ধি পায়। ফলে শিশুরা সহজেই লম্বা হতে পারে।

ডার্ক চকলেটঃ
বাচ্চাদের এমনিতেই চকলেট খেতে দেয়া হয়না। কিন্তু ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। যার ফলে বাচ্চাদের কোষগুলো বৃদ্ধি পায়। তাই সহজেই বাচ্চারা লম্বা হতে পারে।

ডিমঃ
ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন রয়েছে। তাই এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এটি খাবার ফলে দেহের কোষের বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চারা সহজেই লম্বা হতে পারে।

বাদামঃ
বাদাম বা কাজুবাদাম দেহের প্রোটিন, ভিটামিন এবং পুষ্টি জোগায়। বাদাম বা কাজুবাদাম স্বাস্থ্য উপযোগী একটি খাবার। এটি বাচ্চার গ্রোথ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ করুনঃ
মোটা শরীরের মানুষকে অনেকটাই খাটো দেখায়। তাই আপনাকে এমন সব খাদ্য আপনার খাদ্য তারিকায় রাখতে হবে যা খেলে আপনি মোটা হওয়া থেকে বাচতেঁ পারেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনাকে অবশ্যই সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এতে করে আপনি অবশ্যই ভালো থাকবেন এবং লম্বা হবেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে চর্বিহীন প্রোটিন খাবার গ্রহণ করুন। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার গ্রহণ করতে পারেন। এই খাদ্যগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সহায়ত করে।

ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবর খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজিতে আপনি প্রচুর পরিমাণে  ক্যালসিয়াম পাবেন। এত করে আপনার হাড় মজবুত হতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে লম্বা হতে সহায়তা করবে।

ব্যায়াম করুনঃ
আমার মনে হয় ব্যায়ামের বিকল্প কিছু হতে পারেনা। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। যদি ব্যায়াম করতে খুবই কষ্ট এবং অলসতাবোধ করেন তাহলে নিয়মিত প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাটুঁন। এতে  আপনাকে লম্বা হতে সহায়তা করবে এবং সুস্থ্যতা অনুভব করবেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানঃ
ঘুম মানুষের মানসিক শান্তির পাশাপাশি যেমন শারীরিক শান্তি দেয়, তেমনি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে আপনার স্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে। এতে করে আপনার শারীরিক এবং মানসিক প্রেসার পড়ে। ফলে আপনি দুচিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তাই আপনার বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান।

দেহের সঠিক অঙ্গবিন্যাসঃ
চলাফেরায় নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরুন যেন আপনাকে আরো স্মার্ট এবং লম্বা দেখায়। যতটা সম্ভব মেরুদন্ড সোজা হয়ে হাটুন এবং বসুন। ঘুমানোর সময় ঘাড় সোজা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

ঝুলে থাকা ব্যায়াম করুনঃ
ঝুলে থাকা ব্যায়াম আপনার উচ্চতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১০ সেকেন্ড করে করে ঝুলে থাকুন। এবং ব্যায়ামটি নিয়মিত করুন। এভাবে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট এই ব্যায়ামটি করুন। বুঝতে পারছি কাজটি করা খুবই কষ্টকর তারপর এই ব্যায়ামটি আপনার গ্রোথ বৃদ্ধিতে বেশ অবদান রাখবে।

সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করুনঃ
আপনাকে এখন যা বলবো তা হল আপনার খাবার সম্পর্কে সর্তক থাকুন। কেননা আপনার গ্রোথ বৃদ্ধিতে খাবারের তালিকা বেশ অবদান রাখবে। তাই সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করুন। অসময়ে খাওয়া আপনার শরীরের লম্বা হওয়ার পথে শুধু বাধা সৃষ্টি করবেনা বরং এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩ বার খাওয়া ছেড়ে দিন। ৩ বারের জায়গায় ৫ বার খাওয়া গ্রহণ করুন। খাবারের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনি আপনার মোবাইলে এ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন।

বাই-সাইকেল চালানঃ
শুধু কি মটর সাইকেল চালালেই হবে? বরং মটর সাইকেল আপনাকে কুজোঁ করতে বেশ সহায়তা করে। তাই আমি আপনাকে বলবো মটর সাইকেলের পাশাপাশি দৈহিক উচ্চতা বাড়ানোর জন্য বাই-সাইকেল চালান। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে আপনি বাই-সাইকেল চালান। এতে করে আপনার লম্বা হওয়ার পথ সুগম হবে।

যেগুলো লম্বা হওয়ার পথে বাধাঁ দেয়ঃ
ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে নিজেকে রাখুন। ধূমপান আপনার দেহে ক্যান্সারের মত কঠিন রোগ বাসা বাধতে সহায়তা করে। এগুলো আপনাকে লম্বা হতে তো দেবেই না বরং আপনার দেহের গঠন নষ্ট করতে সাহায্য করবে। আপনাকে সামাজিকভাবে হেয় করবে। সেই সাথে আপনার অর্থের নষ্ট করবে।

আত্নবিশ্বাস বাড়ানঃ
যে কোন কাজের সফলতার জন্য আত্নবিশ্বাস অনেক বড় একটা ব্যাপার। অনেক ঔষুধ যেখানে কাজ করেনা সেখানে কিন্তু আত্নবিশ্বাসের ফলেই বড় কাজের সফলতা আনতে সক্ষম হয়। তাই আপনাকে যেটা আপনি বলবো সেটা হচ্ছে, আত্নবিশ্বাসী হোন, এবং নিজেই বিশ্বাস করুন আপনি লম্বা হবেন, দেখবেন ফল পেতে শুরু করেছেন।

মানসিক প্রেসার হ্রাস করুনঃ
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আপনাকে লম্বা হওয়ার পথে বাধাঁর সৃষ্টি করে। মানসিক চাপের ফলে আপনার হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উৎপন্ন হয়। ভিটামিন সি সম্পূরকসমূহ যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে।

সঠিক ব্যায়ামঃ
এই পর্যায়ে আমি আপনাদেরকে বলবো, কোন ব্যায়ামগুলো করলে আপনি সহজেই লম্বা হবেন। ট্রাইঅ্যাঙ্গেল পোজ, মাউন্টেইন পোজ, কোবরা পোজ, প্লিজেন্ট পোজ, ট্রি পোজ। এই ব্যায়ামগুলো আপনাকে লম্বা হতে সহায়তা করবে।

প্রতিদিন নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে দেহে ঘুমের সময় যে গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, তা উৎপন্ন করতে ব্যায়াম সহায়তা করে থাকে। যার ফলে আমরা সহজেই লম্বা হতে পারি।

যে কোন কঠিন শারীরিক ব্যায়াম আপনার লম্বা হতে সাহায্য করবে। তবে হে, অবশ্যই এই ব্যায়াম গুলো করার জন্য আপনার বয়স ২১ বছরের বেশি হতে হবে।

সাতার কাটুঁনঃ
লম্বা হওয়ার জন্য সাতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রতিদিন আপনি ৩০ মিনিট করে সাতার কাটুন। তাহলে দেখবেন আপনার কাংখিত গ্রোথ পৌছতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা।

লম্বা হওয়ার পথে বাধাঁ সৃষ্টিকারীঃ

প্রথমতঃ
লম্বা হওয়ার জন্য শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করে এমন ভারি কোন জিনিস বহন করা থেকে বিরত থাকুন। ভারি জিনিস বহনের ফলে মেরুদন্ডের উপর চাপ সৃষ্টি হয় ফলে আপনার বৃদ্ধিতে বাধাঁ আসে। যেমনঃ পানি ভর্তি বালতি, ভারি স্কুল ব্যাগ।

দ্বিতীয়তঃ
উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন। যেমন-পচা, বাসি খাদ্য খাবেননা। না খেয়ে কাজে যাবেন না। খাওয়ার পর কাজে হাত দিন। জাংক ফুড, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি, কার্বোরেটেড ড্রিংকস, ড্রাগ, এলকোহল, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি আবার দেহের গ্রোথ হরমোন তৈরিতে বাধা দেয় এবং করটিসল উৎপাদিত হয়। ফলে লম্বা হওয়ার পথে বাধা প্রাপ্ত হয়।

লম্বা হওয়ার আত্নবিশ্বাস নিয়ে যদি এগিয়ে যান তা হলে আশা করছি এই টিপসগুলো আপনার সাথে থাকবে এবং আপনার কাংখিত উচ্চতায় নির্দিষ্ট সময়ে পৌছাতে সাহায্য করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here