শামসুদ্দীন শিশির: শিক্ষক, গুরু ও পথ প্রদর্শক

একজন শামসুদ্দীন শিশির: শিক্ষক, গুরু ও পথ প্রদর্শক

জাতির মেরুদন্ডকে যারা প্রকৃত শিক্ষা তথা নৈতিক চেতনার সঞ্জীবনী স্পর্শ দিয়ে নমনীয় ও সুদৃঢ় করে উজ্জীবিত করেন, তারাই তো সত্যিকারের শিক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন। তাই শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে শূন্যপদ পূরণ হয় বটে, কিন্তু সত্যিকারের ‘শিক্ষক’ হয়ে ওঠা সকলের হয় না। আর এমনই এক শিক্ষকের প্রকৃত শিক্ষক, গুরু ও পথ প্রদর্শক হয়ে উঠার গল্প এটা।

একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে পিতার মতো নির্দেশ দেন। তিনি তাকে জীবনে পথ চলার উপযোগী বিভিন্ন উপদেশ দেন। কিন্তু, একজন গুরু হলেন ‘মাতৃসম’, যিনি শুধু পথ নির্দেশ নয়, তার শিষ্যকে পরিপূর্ণ রূপে লালন পালন করেন। এমনই একজন গুরু শিক্ষকদের শিক্ষক ‘ মীর অাবু সালেহ শামসুদ্দীন শিশির ’ সদায় হাস্যোজ্বল, কলামিস্ট, গবেষক, সুবক্তা, সাহিত্য প্রেমী, রসিক ও মিশুক অসম্ভব একজন ভালো মানুষ। প্রথম পরিচয়েই মানুষকে খুব সহজে আপন করে নেন। যার জ্ঞানপিপাসা, শিষ্য ও শিক্ষকদের প্রতি ভালবাসা ও সততা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবনে চলার পাথেয়।

এই গুণী শিক্ষক ও প্রশিক্ষক কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দাউদপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মীর অাবু তাহের অবসরপ্রাপ্ত একজন অাদর্শ শিক্ষক, মা একজন ত্যাগী গৃহীনি ও স্ত্রী মেধাবী শিক্ষিকা।

প্রফেসর শামসুদ্দীন শিশির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী নিয়েছেন ১৯৯০ সালে। পরবর্তী সময়ে প্রথম শ্রেণিতে বি.এড ১৯৯৪ সালে এবং প্রথম শ্রেণিতে এম.এড কোর্স সমাপ্ত করেছেন ২০০১ সালে।

কলামিস্ট ও গবেষক শামসুদ্দীন শিশির বর্তমানে সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, চট্টগ্রামের শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

শিক্ষক মানেই গুরু গম্ভীর ও শিক্ষার্থী থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলা মানুষ। কিন্তু প্রচলিত এ নিয়ম ও ধারণাকে শামসুদ্দীন শিশির পাল্টে দিয়েছেন ভালোবাসা দিয়ে।

তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে একজন শিক্ষক ভালবাসা দিয়ে তার শিক্ষার্থীর মনের ভিতরে প্রবেশ করে সেখানে উচ্চাখাঙ্কার বীজ বপন করতে পারেন, কিভাবে সেখানে ভক্তি-শ্রদ্ধা,সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে তাকে একজন খাটি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেন ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ সকলের ” শিশির স্যার”।

শামসুদ্দীন শিশির বি.এড কলেজের তাঁর শিক্ষকতার এই দীর্ঘ সময়ে একটি বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন “শিক্ষক হওয়া চাই বন্ধুর মতো, তবে বন্ধু নয়”।

বি.এড কলেজ একটি বৃহত্তর পরিবার। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরাই তার প্রাণ। তাই এ পরিবার সুখী তখনই থাকবে যখন সামগ্রিকভাবে সকল কাজে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বর মাসে এই মহান শিক্ষকের বয়স ৫০ এ পদার্পণ করবে । শুভকামনা জাতির এ কাণ্ডারীর জন্য। পরিশেষে অামি স্যারের বয়স ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে স্যারের কর্মময় জীবনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রকাশিতব্য স্মারক গ্রন্হের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অান্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

অধ্যক্ষ এম সোলাইমান কাসেমী
সম্পাদক
এমএসকেনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here